img

জুনাইদ হোসেন জুয়েল :

বাংলা ও বাঙ্গালীর সবটুকু সোনালী অর্জনের গর্বিত অংশিদার বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। রাজনীতি শিক্ষার আতুর ঘর বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। ৫২, ৫৪, ৬৬, ৬৯,৭১, ৯০ সর্বোপরি ৯৬ এর গণ আন্দোলনসহ সকল গনতান্ত্রীক আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়া ঐতিহ্যবাহী কোটি তরুণ প্রাণের স্পন্দন প্রিয় মুজিবের হাতে গড়া ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। প্রাণের ছাত্রলীগ তার ২৯ তম সম্মেলন ও কাউন্সিল ২০১৮ সম্পন্ন করতে যাচ্ছে। সম্মেলনকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দিপনা আর স্নায়ু উত্তেজনা সমগ্র দেশব্যপি পরিলক্ষিত হচ্ছে। যারা বর্তমানে এই ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ত আছেন এবং যারা প্রিয় এই সংগঠন থেকে সাবেক হয়েছেন সকলের মুখে মুখে এখন আলোচনা একটাই কে বা কারা আসছে ছাত্রলীগের হাল ধরতে বা কাদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে প্রাণের সংগঠনের প্রিয় পতাকা। অথবা কারা হতে যাচ্ছে শিক্ষা, শান্তি আর প্রগতির ধারক ও বাহক। এমন চিন্তা যে শুধু সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের মাঝে শুধু তাই না এ চিন্তা সকল মুজিব প্রেমিক কূলের। সমস্ত নৌকা বাহি গণমানুষেরও। বলা হয় কেহ একজন যখন অসুস্থ হয় তখন সে ডাক্তারের শরনাপন্ন হয়ে থাকে কিংবা কেউ যখন কোনো মামলায় জড়িত হয় তখন সে উকিলের দারস্থ হয়ে থাকে আর জাতি যখন কোনো জরুরী বিরুপ পরিস্থিতিতে পরে তখন ঐ জাতির ত্রাতার ভুমিকায় অবতীর্ন হয় সে দেশের ছাত্ররা এবং ছাত্রলীগই হলো বাঙ্গালী জাতির ত্রাতা। ছাত্রলীগই হচ্ছে বাংলার গণ মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল। ছাত্র জনতার এমন ত্রাহী সংগঠনকে নিয়ে দেশের গণ মানুষের ভাবনা থাকাটাই স্বাভাবিক।

অভিযোগ আছে এমন জনপ্রিয় সংগঠনটিকে গুটিকয়েক স্বার্থেন্বেসী মহল নিজেদের ফায়দা হাসিল করার স্বার্থে উলঙ্গ ব্যাবহার করে চলছে। ছাত্রলীগে শিবির ও পতিত বিএনপি অনুপ্রবেশ করেছে। ভিন্ন দিকে ব্যাবহার করা হচ্ছে সংগঠনটিকে। ছাত্রলীগ তার মূল আদর্শ হারাতে বসেছে। মুজিবের ছাত্রলীগ আজ সিন্ডিকেটের কবলে পরে ক্ষত বিক্ষত। ছাত্রলীগকে সামনে রেখে সিন্ডিকেটের মহারথিরা কোটি টাকার বাণিজ্য করছে। ছাত্রলীগকে বিক্রি করছে দেদারচে চড়া দামে। তাই যে কোনো মুল্যে ছাত্রলীগকে বাচাতে হবে ঐ সব কালোবাজারীদের হাত থেকে। এখনই সময়।
ইতমধ্যে ছাত্রলীগের অভিভাবক বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসুরী, মাদার অব হিউমেনেটি রাষ্ট্রনায়ক দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরেছেন। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন ছাত্রলীগের এই ভয়ানক সিন্ডিকেট ভেঙে ছাত্রলীগকে ঢেলে সাজানোর জন্য। তিনি বলেছেন ছাত্রলীগের মধ্যে কোনো সিন্ডিকেট থাকতে পারবে না। থাকতে দেয়া হবে না। প্রিয় নেত্রীর এমন ঘোষণায় সমগ্র দেশের মুজিবপ্রেমী মানুষ আজ আবার আশায় বুক বাধছেন। আবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। আবার সঠিক নেতৃত্ব দেখতে পাবে। এবার জননেতা হবে ছাত্র নেতৃত্ব থেকে বেরিয়ে আসা কোনো একজন। আবার ডাকসুতে নির্বাচন হবে হয়ত। প্রমাণ হবে রাজনীতি রাজনীতিবিদদের হাতেই নিরাপদ। কোন আমলা, কোনো ব্যাবসায়ি রাজনীতিক, কোনো উর্দি পোষাকধারী চোখে কালো সানগ্লাসওয়ালা অথবা ক্যান্টনম্যান্টের পিছনের দরজা থেকে বেরিয়ে আসা কেউ নয়।
স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারি দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুল চালিকা শক্তি হলো ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগে ভেজাল থাকলে আওয়ামীলীগ ক্রমশ দুর্বল হয়ে পরবে। ছাত্রলীগ হলো এমন একটি নিস্পাপ প্রতিষ্ঠান যেখান থেকে দেশের অনাগত নেতৃত্ব তৈরী হয়। তাই ছাত্রলীগ নিস্কলূষ রাখতে পারলেই কেবল সৎ নেতৃত্ব আশা করা যায়। প্রিয় এই দেশটিতে এখন দরকার সকল ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার মত সৎ মানুষের শাসন। ছাত্রলীগকে মনের মত সাজাতে হলে বেশ কয়েকটি বিষয়ের উপর নজর দিতে হবে :
১। নেতৃত্বের বিকেন্দ্রিকরণ অর্থাৎ দেশের সকল এলাকা থেকে বেছে বেছে মেধাবী, যোগ্য ও পরিপুর্ণ আওয়ামীলীগ পরিবারের সন্তানদের থেকে নেতা নির্বাচিত করা।
২। যে সকল সংসদীয় আসনে মূল দল আওয়ামী লীগে অযোগ্য নেতৃত্ব বহাল তবিয়তে সে সকল এলাকা থেকে নেতা তৈরী করা যাতে অদুর ভবিষ্যতে ঐ সমস্ত এলাকায় যোগ্য নেতৃত্বের অভাব দুর হয়।
৩। কথিত সিন্ডিকেটের আশির্বাদপুষ্ট বহুরূপী চামচাদের চিহ্নিত করে ছাত্রলীগ থেকে বাদ দিয়ে সাধারণ কর্মীদের মধ্যে থেকে নেতা তৈরী করা।
৪। বাপ, ভাই করে বিএপি আত্মীয়রা জামাত এমন সব পরিবারের সন্তানদের বয়কট করা।

এসব কিছু বিষয়ের উপর খেয়াল রেখে নেতা তৈরী করলে অবশ্যই আগামী ছাত্রলীগ হবে একটি গতিশীল, জনপ্রিয়, শক্তিশালী সংগঠন যা কোটি কোটি মুজিবপ্রেমীর একান্ত প্রত্যাশা। সমগ্র দেশপ্রেমিক মুজিব সৈনিক উম্মুখ হয়ে আছে এমন একটি স্বপ্নের ছাত্রলীগের কমিটির জন্য। আশা করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলার গণমানুষের প্রাণপ্রিয় নেত্রী লক্ষ  কোটি প্রাণের দাবি পুরণ করবেন।

লেখক: জুনাইদ হোসেন জুয়েল, ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী  

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ