img

গত বছরের মে মাসে গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের এক নেতার নারী কেলেঙ্কারীর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। মানুষের মুখে মুখে ছিল সেই ভিডিওর কথা। কেই বা না জানতো ছাত্রলীগ নেতা ফাহিম খন্দকারের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের  কথা। এলাকায় নারীদেরই ব্লাক মেইল ছাড়াও তিনি বিভিন্ন অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িত বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বেশ কয়েকটি পত্রিকায় তার এ অবৈধ কর্মকাণ্ডের কথা ছাপা হয়েছিল। অবশ্য পরে ওই নেতা নিজের দায় এড়াতে থানায় তার নামে গুজব ছড়ানোর বিষয় উল্লেখ করে সাধারণ ডায়রি করেন। 

নারী কেলেঙ্কারীর ভাইরালকৃত সেই ভিডিওর পুরুষ ও সাংবাদিক পেটানো ছাত্রলীগ নেতার নাম ফাহিম খন্দকার। সে গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ন আহ্বায়ক

গত রোববার (২৪ তারিখ) শ্রীপুর উপজেলা নির্বাচন শেষে রাত সাড়ে ৯ টার দিকে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাড. সামসুল আলম প্রধানের সমর্থক ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক এই নেতা বিশাল এক মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম রবিনের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় পেশাগত দায়িত্বপালনে হামলার চিত্র মোবাইল ক্যামেরাই ধারণ করার সময় সাংবাদিক এস এম সোহেল রানাকে বেধরক পিটনি দেয়। হামলাকারীদের লাঠি ও ইট দ্বারা উপুর্যপরী আঘাতের এক পর্যায়ে সোহেল রানা জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তাররা অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে পাঠায়।

সোহেল রানার ভগ্নিপতি আমানুল্লাহ জানান, সোহেল ভাইয়ের চিৎকার শোনে দৌড়িয়ে কাছে গেলে ফাহিমের লোকেরা আমাকেও মারতে চায়। পরে ফাহিমের হাতে পায়ে ধরে অনুরোধ করি সোহেল ভাইকে ছেড়ে দিতে।

গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম রবিন জানান, জননেত্রী শেখ হাসিনার মনোনিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল জলিল’র নির্বাচন করেছি, এটাই মূল কারণ আমার বাড়িতে হামলা করার। তা না হলে বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী মোটরসাইকেল প্রতীকের সমর্থক ফাহিম দলবল সহ মোটরসাইকেল যোগে এসে আমার বাড়িতে হামলা করবে কেনো।

হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় সোমবার দুপুরে সোহেল রানা জানায় , ছাত্রলীগ নেতা ফাহিম খন্দকার ও তার ক্যাডাররা আমার ওপর হামলা চালিয়েছে। যে মোবাইল দিয়ে ছবি তুলছিলাম, সেটাও নিয়ে গেছে। মা বাবা ও শুভকাঙ্খিদের দোয়ায় হয়তো বেঁচে গেছি। অন্যথায় যেভাবে ইট দিয়ে আমাকে আঘাত করা হয়েছে তাতে ঘটনাস্থলেই মারা যাওয়ার কথা।

শ্রীপুর উপজেলার নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান অ্যাড. সামসুল আলম প্রধান এ বিষয়ে বলেন, গতকালকে সাংবাদিকের ওপর হামলার বিষয়টি শুনেছি। খুব দুঃখজনক। শ্রীপুরের মানুষ আমাকে সন্ত্রাসমুক্ত শ্রীপুর গড়তে দায়িত্ব দিয়েছেন, এখনো শপথ হয়নি। তবে কোনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চলতে দিবো না।

শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাবেদুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলাসহ নির্বাচনী সহিংসতা চালানোর অপরাধে পুলিশ বাধী হয়ে মামলা হয়েছে। ঘটনার রাতেই ফাহিমের ভাই নাঈম খন্দকারসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা ফাহিম পলাতক, ধরার চেষ্টা চলছে।
 

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ