img

বাসার অদূরে বসেছিল জমজমাট মেলা। মেলায় ছিল দোলনাসহ নানা ধরনের খেলার আয়োজন। এমন আয়োজন দেখে শিশুমন তো নেচে উঠবেই। তবে সেই মেলায় যে মৃত্যুর ফাঁদ থাকতে পারে- তা বোঝার কথা নয় শিশুটির। বীথি আক্তারের (১০) ক্ষেত্রেও সেটাই হলো। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগের গ্যাস গলির বাসা থেকে রোববার সকালে বীথি একাকি চলে যায় মেলায়। সেখানে গিয়ে বিদ্যুৎচালিত নৌকা আকৃতির দোলনায় ওঠে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই নৌকাটি বিদ্যুতায়িত হয়ে গুরুতর আহত হয় সে। দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এমন মর্মন্তুদ ঘটনায় হতবিহ্বল হয়ে পড়েন নিহতের স্বজন ও পরিচিতজনরা। পুরো রায়েরবাগ এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। দোলনা থেকেই না ফেরার দেশে চলে গেল ফুলের মতো নিষ্পাপ শিশুটি। এটা মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসী। তারা মেলার আয়োজকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

পুলিশের ডেমরা বিভাগের এডিসি ইফতেখায়রুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় শিশুটির মা তার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরে ছিলেন। শিশুটিকে দেখভাল করছিলেন তার নানি। কাউকে না জানিয়ে সে মেলায় গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়।

জানা গেছে, বীথির বাবার নাম আবু সাইদ। তাদের তিন সন্তানের মধ্যে বীথি দ্বিতীয়। রায়েরবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ত বীথি। শিশুটির বাবা সৌদি আরবে থাকেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বীথির মা ফরিদপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

যাত্রাবাড়ী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, রায়েরবাগের গিয়াস উদ্দিন সড়কের রশিদবাগ এলাকার একটি মাঠে মেলা চলছিল। দুর্ঘটনার পর মেলার লোকজন সব মালপত্র রেখে পালিয়ে গেছে। তাদের ধরার চেষ্টা করছি। অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, স্থানীয় সুমন ও জুলহাজ এবং তাদের সহযোগীরা রায়েরবাগে মেলা বসিয়েছে। মেলা বসানোর আগে তারা প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেয়নি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, সকাল সাড়ে ১১টায় বীথিকে হাসপাতালে নিয়ে আসে তার স্বজনরা। পরীক্ষা করে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ