img

চিকিৎসক হওয়ার আশায় স্টুডেন্ট ভিসায় নিউজিল্যান্ডে যান চাঁদপুরের মোজাম্মেল হক সেলিম মিয়াজি। তবে তার সে আশা পূরণ হলো না। ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলায় নিহত হয়েছেন তিনি। তার মৃত্যুর খবরে কেঁদেই চলেছেন মা জামিলা খাতুন।

গত শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে হামলা চালায় বন্দুকধারী এক যুবক। ওই হামলায় এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৫০ জন। হামলায় আহত সেলিম মিয়াজিসহ অন্তত ৩০ জন। পরে হাসপাতালে মারা যান সেলিম মিয়াজি। 

মতলব দক্ষিণ উপজেলার হুরমহিষা গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমান ও জামেনা বেগম দম্পতির ছেল সেলিম মিয়াজি ক্রইস্টচার্চে হামলার পর নিখোঁজ ছিলেন। পরে সেখানকার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পরিচিতরা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে।

নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মা জামিলা খাতুন ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে কেঁদেই চলেছেন। আহাজারি করে বলছেন, 'আমার ছেলের ফোন বন্ধ কেন? গত সোমবার কথা বলেছি। আর কথা বলতে পারি নাই। কথা ছিল বাড়িতে এসে বিয়ে করবে। আমার অসুস্থতার কথা শুনে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছে চিকিৎসার জন্য।'

স্বজনরা জানান, ঢাকার একটি মেডিকেল কলেজ থেকে ডেন্টাল বিষয়ে লেখাপড়া শেষ করে  উচ্চতর ডিগ্রির জন্য নিউজিল্যান্ডে যান সেলিম মিয়াজি। তার এফআরসিএস কোর্স শেষ পর্যায়ে ছিল বলে জানান স্বজনরা। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট।

খাদেরগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ মনজুর হোসেন জানান, হামলায় সেলিম মিয়াজি আহত হয়েছিলেন। এলাকার লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। প্রথম পর্যায়ে সে নিখোঁজ ছিল। পরে তিনি যখন মারা যান তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্রিফ করে বিষয়টি নিশ্চিত করে।

সেলিমের মেজো ভাই মো. শাহাদাত হোসেন মিয়াজি জানান, গত শুক্রবার সেলিমের সহপাঠীরা ফোনে ঘটনাটি জানিয়েছে। সাড়ে ৩ বছর আগে ঋণ করে ছোট ভাইকে নিউজিল্যান্ডে পাঠিয়েছিলাম। 

তিনি বলেন, তার এফআরসিএস শেষ পর্যায়ে ছিল। তার আশা ছিল, আরও পড়াশুনা করবে। ভালো চাকরি করবে। নিউজিল্যান্ড যাওয়ার সময় তার নামে আমরা অগ্রণী ব্যাংকে ঋণ করেছি ২০ লাখ টাকা। মনে করেছিলাম, ভাই রোজগার করে পাঠালে তা পরিশোধ করবো। কিন্তু এখনতো ভাইকেই হারিয়ে ফেললাম। ভাইও বলেছিল, পড়াশুনা শেষ হলেই ভালো চাকরি হবে, তখন সব দুঃখ-কষ্ট দূর হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, গত সোমবার শেষবারের মতো ভাইয়ের সঙ্গে তার কথা হয়। আগামী রমজানে মাকে দেখতে দেশে আসবে বলেছিল। আমরা সরকারের সার্বিক সহযোগিতা চাই। যদি সরকার দয়া করে।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা বিষয়টি জেনেছি। তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ