img

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে অনিয়ম-কারচুপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন বাতিল, পুনঃতফসিল ঘোষণাসহ পাঁচ দফা দাবিতে সোমবার থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করার ঘোষণা দিয়েছে প্রগতিশীল ছাত্রঐক্য। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে। এ ছাড়া সোমবার সকাল ১১টায় উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দিয়েছেন তারা।

রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে জোটের পক্ষ থেকে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী লিটন নন্দী এ ঘোষণা দেন। এ সময় সেখানে জোটের জিএস প্রার্থী ফয়সাল মাহমুদ, এজিএস প্রার্থী সাদেকুল ইসলাম সাদিক, ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক রাজিব দাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্রঐক্যের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- অবিলম্বে নির্বাচন বাতিল, পুনঃতফসিল ঘোষণা, উপাচার্যের পদত্যাগ, নির্বাচনে কারচুপির সঙ্গে জড়িত শিক্ষকদের পদত্যাগ ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা সব মামলা প্রত্যাহার।

সংবাদ সম্মেলনে লিটন নন্দী অভিযোগ করেন, ডাকসু নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। ১১ মার্চের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হয়েছে। এই নির্বাচন তারা মানেন না। এ কারণে ছাত্রলীগ ছাড়া নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা পাঁচটি প্যানেল এই প্রহসনের নির্বাচন বর্জন করেছে।

এই পাঁচ প্যানেলের মধ্যে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ সমর্থিত প্যানেলও রয়েছে। এ প্যানেল থেকেই ডাকসুর ভিপি হয়েছেন নুরুল হক নুর। শনিবার প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে গণভবনে যান তিনি। সেখানে ছাত্রলীগের সঙ্গে তার সম্পর্ক ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আবেগঘন বক্তব্য দেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে লিটন নন্দী বলেন, নুরের এই বক্তব্য তার আগের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারা আমাদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে ভোট বর্জন করে আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এখন নুর যদি গণভবনে দেওয়া বক্তব্যে অটল থাকেন, তাহলে এটি হবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা। তার এ বক্তব্য আমাদের আন্দোলনের গতি কমিয়ে দিয়েছে। ধোঁয়াশায় ফেলেছে ছাত্র সমাজকে। আশা করি, তিনি শিগগিরই তার অবস্থান পরিস্কার করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্য প্যানেলের কেউ নেই কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে লিটন নন্দী বলেন, অন্যরা এখনও অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন। তারা সাংগঠনিকভাবে এক হতে পারেননি। এ বিষয়ে আলোচনা করছেন তারা। সবার সামনে তারাও তাদের অবস্থান পরিস্কার করবেন বলে আশা করছি।

১১ মার্চ ছাত্রলীগ ছাড়া নির্বাচন বর্জন করে সংবাদ সম্মেলন করে পাঁচটি প্যানেল। সেগুলো হলো- প্রগতিশীল ছাত্রঐক্য, স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী জোট, স্বাধিকার স্বতন্ত্র জোট, সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ ও ছাত্র ফেডারেশন। তবে গতকালের সংবাদ সম্মেলনে দেখা যায় শুধু ছাত্রঐক্যের নেতাকর্মীদের।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ