img

নিউজিল্যান্ডে ক্রাইস্টচার্চে আল নূর মসজিদে হামলায় নিহত তিন বাংলাদেশির একজন কৃষিবিদ ড. আব্দুস সামাদের বাড়ি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌর এলাকার মধুরহাইল্যা গ্রামে। তার মুত্যুর খবরে এলাকাজুড়ে বিরাজ করছে শোকের ছায়া। তার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা।

ড. আব্দুস সামাদ মধুরহাইল্যা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম জামাল উদ্দিন সরকার। তিনি এলাকাতে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়ালেখা করে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষা নেন। পরে তিনি সেখানেই শিক্ষকতা শুরু করেন। শিক্ষকতার সময় তিনি পিএইচডি করতে নিউজিল্যান্ডে যান। সেখান থেকে ফিরে আরও কিছুদিন ময়মনসিংহে শিক্ষকতা করেন। এরপর চাকরি শেষ করার আগেই তিনি অবসর নিয়ে নিউজিল্যান্ডে পরিবারসহ বসবাস শুরু করেন। সেখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। পাশাপাশি ওই মসজিদে ইমামতি করতেন তিনি।

ড. সামাদের তিন ছেলে। এক ছেলে তোহা মোহাম্মদ বাংলাদেশে বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। বাকি দুই ছেলে তারেক মাহমুদ ও তানভীর হাসানসহ স্ত্রী কিশোয়ারাকে নিয়ে নিউজিল্যান্ডে থাকতেন।

নিহতের ভাতিজা আব্দুল মান্নান বলেন, 'আমরা প্রথমে জানতে পারি আমার চাচা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পরে জানতে পারি তিনি মারা গেছেন। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, আমার চাচার মরদেহ দ্রুত নিয়ে আসবে। একই সাথে যারা আমার চাচাকে গুলি করে হত্যা করেছে তাদের উপযুক্ত শাস্তি দেয়া হোক।'

নিহতের ছোট ভাই অধ্যাপক শামসুদ্দিন বলেন, 'আমার ভাই ওই মসজিদের ইমাম ছিলেন। তিনি অত্যন্ত ধর্মভীরু মানুষ। আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। আগামী মাসে তার বাড়িতে আসার কথা ছিল। গ্রামের বাড়ির কাছে একটি মাদ্রাসা করতেন এবার এসে। এমনটা ইচ্ছে ছিল তার। কিন্তু সে ইচ্ছা পূরণ হলো না।'

কৃষিবিদ ড. আবদুস সামাদের মৃত্যুতে তার গ্রামের বাড়িতে যেন শুধুই শোক। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি এলাকা। প্রিয় মানুষটির মৃত্যুর খবর মেনে নিতে পারছেন না অনেকে।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ