img

নারীর অগ্রগতিকে দেশের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হিসেবে বর্ণনা করে জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেছেন, যারা মনে করেন নারীর স্থান গৃহকর্মে, তাদের সঙ্গে যুদ্ধ এখনও বাকি রয়ে গেছে। এই যুদ্ধে অগ্রসর হতে হবে।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে 'বেগম বদরুন্নেসা আহমেদ ট্রাস্ট নারী সম্মাননা' প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

দেশের প্রথম নারী সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, প্রথম নারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, প্রথম নারী স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং প্রথম নারী মেজর জেনারেল সুসানে গীতিকে ২০১৯ সালের 'বেগম বদরুন্নেসা আহমেদ ট্রাস্ট নারী সম্মাননা'য় ভূষিত করা হয়।

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, 'বাংলাদেশের নারীরা পোশাক শ্রমিক থেকে শুরু করে বিমানের দক্ষ পাইলট হিসেবেও কাজ করছেন। বলা যেতে পারে, স্বর্গ-মর্ত্যজুড়ে তারা আছেন। তারপরও এ দেশে নারীর পথ খুব সুগম হয়নি। এখনও নারী শিক্ষার বিরোধী মানুষ আছেন। যারা বলেন যে, মেয়েদের ক্লাস থ্রি-ফোরের বেশি পড়ানো উচিত নয়, পড়ালে তারা স্বামীর অবাধ্য হয়ে যায়। ২০১৯ সালে এটা শুনছি, এটা অবাকই লাগে।'

সম্মাননাপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে আনিসুজ্জামান বলেন, যারা সম্মাননা লাভ করলেন, তাদের দৃষ্টান্ত অন্য নারীর জন্য অনুপ্রেরণামূলক হবে। তারা দেশ ও জাতির উন্নয়নে আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন।

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বলেন, এ সম্মাননা নারীদের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, 'বাংলাদেশের নারীদের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক চ্যালেঞ্জ বিশ্বের যে কোনো সমাজের মতোই বিদ্যমান। কিন্তু নারীরা সাহসিকতার সঙ্গে সেগুলোর উত্তরণ ঘটিয়ে সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অবদান রেখে যাচ্ছেন। সে জন্য সব নারীকে অভিবাদন জানাই।'

সাহারা খাতুন বলেন, 'পুরুষের সমান যেন নারীরাও হতে পারি, সেভাবে কাজ করে যেতে চাই, লড়াই করে যেতে চাই।'

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নাসরিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বেগম বদরুন্নেসা আহমেদ ট্রাস্টের ট্রাস্টি মাহফুজা খাতুন, বাংলা রেকর্ডসের চেয়ারম্যান ও সাবেক কারা মহাপরিদর্শক ইফতেখার উদ্দিন বক্তব্য দেন।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ