img

সন্ত্রাসীর চরম অমানবিক ও অমানুষিক নির্যাতনে তিলে তিলে প্রাণ হারায় তিন বছরের শিশু আবীর। নাকে-মুখে কাপড় বেঁধে নির্জন ছাদে ফেলে রাখা হয় তাকে। সেখানে মৃত্যুযন্ত্রণায় পার হয় ১৬টি ঘণ্টা। তারপর নিভে যায় তার প্রাণপ্রদীপ। পরে তার মরদেহ ফেলে দেওয়া হয় একটি ডোবায়। চার বছর পর ফেনী সিআইডি আবীর হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করে জানিয়েছে এসব তথ্য।

২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর ফেনী শহরের মাস্টারপাড়ায় ঘটে এ নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড। ফেনী থানা পুলিশ হত্যার ক্লু উদ্ঘাটন করতে ব্যর্থ হলে ২০১৬ সালে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য ফেনী সিআইডিকে দায়িত্ব দেয়। তার তিন বছর পর হত্যাকারীদের চিহ্নিত করতে সক্ষম হয় তারা। বুধবার রাতে ফেনী সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আক্তার হোসেন সংবাদ সম্মেলনে আবীর হত্যা সম্পর্কে বিস্তারিত জানান।

এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় এই হত্যা মামলার আসামি একই এলাকার তৌহিদুল ইসলাম জনি ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। আসামিকে জেলহাজতে পাঠান আদালত।

আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে সহকারী পুলিশ সুপার জানান, আবীরের বাবা জসিম হাজারীর সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী তৌহিদুল ইসলাম জনির বিরোধ ছিল। যে কারণে জসিম হাজারী এলাকা ছেড়ে পালিয়ে ছিলেন। এর শোধ নিতে আবীরকে হত্যার পরিকল্পনা করে জনি। ঘটনার দিন মাস্টারপাড়ার বাসার সামনে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল আবীর। সেখান থেকে জনি ডেকে নিয়ে পাশে ভুট্টো মিয়ার নির্মাণাধীন পাঁচতলা ভবনের নির্জন ছাদে আবীরের হাত-পা জিআই তার দিয়ে বেঁধে ফেলে রাখে। নাকে-মুখে গামছা পেঁচিয়ে রেখে চলে যায়। রাত ১০টার দিকে জনি এসে দেখে, তখনও আবীরের প্রাণ রয়েছে। তখন সে আরও শক্ত করে গামছা পেঁচিয়ে দেয়। ভোর ৪টার দিকে আবার এসে দেখে, আবীর নিথর হয়ে গেছে। সেখান থেকে তার মৃতদেহ পার্শ্ববর্তী সামছু মিয়ার ডোবায় ফেলে চলে যায় জনি। দু'দিন পর লাশ ভেসে ওঠে।

এ ঘটনায় জসিম উদ্দিন কারও নাম উল্লেখ না করে ফেনী থানায় হত্যা মামলা করেন। চার বছর পর বিভিন্ন সূত্র ধরে সিআইডির এসআই সাহাব উদ্দিন হত্যা মামলাটির রহস্য উদ্ঘাটন করেন।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ