img

চিকিৎসার জন্য আপাতত সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে না আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থা এখন কিছুটা উন্নতির দিকে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন ওবায়দুল কাদেরের সর্বশেষ শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ব্রিফ করেন উপাচার্য ও নিউরো সার্জন অধ্যাপক কনক কান্তি বড়ুয়া।

তিনি বলেন, ওনার (ওবায়দুল কাদের) অবস্থা সকাল ও দুপুরের থেকে একটু উন্নতির দিকে। তিনি চোখ মেলে তাকিয়েছেন। পানি খাবেন কিনা জিগ্যেস করলে; মাথা নেড়েছেন। হাত-পা নাড়ছেন।

উপাচার্য অধ্যাপক কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, 'সিঙ্গাপুর থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি প্রতিনিধি এসেছিল। তারা রোগীকে দেখেছেন। তাদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। যেহুতু ওনাকে এখন শিফট করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই আমরা এখানে আগামী ২৪ ঘণ্টা রেখে চিকিৎসা করতে চাই।'

তিনি আরও বলেন, 'যেহুতু তার অবস্থা এখন কিছুটা উন্নতির দিকে। সুতরাং আমরা তাকে এই মুহূর্তে সিঙ্গাপুরে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকরাও বলেছেন; এখন তাকে মুভ করানো ঝুঁকিপূর্ণ।'

পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, ৬৭ বছর বয়সী ওবায়দুল কাদের রোববার ভোরে তার রাজধানীর সংসদ ভবন সংলগ্ন সরকারি বাসায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফজরের নামাজের পর হঠাৎ করেই তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকলে তার স্ত্রী ইশরাতুন্নেসা কাদের ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা তাকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হাসপাতালের ডি-ব্লকের কার্ডিওলজি বিভাগের ইনসেনটিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয় সেতুমন্ত্রীকে। সেখানে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে তাকে কার্ডিওলজি বিভাগের দোতলায় সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। একপর্যায়ে যন্ত্রের সাহায্যে তার শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়।

এর আগে হাসপাতালে আনার পরপরই চিকিৎসকদের পরামর্শে প্রথমে সিটি স্ক্যান ও পরে এনজিওগ্রাম করা হলে ওবায়দুল কাদেরের হৃদযন্ত্রের তিনটি রক্তনালিতে (আর্টারি) ব্লক ধরা পড়ে। এর মধ্যে একটিতে রিং পরানো হয়। পরে তার চিকিৎসায় বিএসএমএমইউর কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আলী আহসানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।

বিএসএমএমইউর উপাচার্য দুপুরে জানান, সকাল পৌনে আটটার দিকে ওবায়দুল কাদের শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে আসেন। তখনই তাকে হাসপাতালের সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার হার্ট অ্যাটাক হয়। পরে এনজিওগ্রাম করে দেখা যায়, তার হৃদ্‌যন্ত্রে তিনটি ব্লক। একটিতে স্টেন্টিং করে দেওয়া হয়েছে।

ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ও বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের কার্ডিওলজির অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান দুপুরে ব্রিফিংয়ে জানান, সেতুমন্ত্রীর তিনটি রক্তনালীতে ব্লক ধরা পড়েছে। তার মধ্যে একটি স্টেন্টিংয়ের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়েছে। উনার অবস্থা ওঠানামার মধ্যে আছে। দোয়া করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। যেহেতু উনি ভেন্টিলেশনে আছেন, সেহেতু উনি জীবনশঙ্কায় আছেন বলতে পারেন।

সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে হাসাপতালে বিএসএমএমইউর উপাচার্য জানান, ওবায়দুল কাদেরের অবস্থা এখনও শঙ্কামুক্ত নয়। তার অবস্থা স্থিতিশীল। তিনি চোখ খুলেছেন। এখন অবস্থা বুঝে পরীক্ষা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সিঙ্গাপুর থেকে চিকিৎসকদের একটি প্রতিনিধি দলের ঢাকায় আসার কথা জানিয়ে কনক কান্তি বড়ুয়া তখন জানান, এ মুহূর্তে তাকে স্থানান্তর সম্ভব নয়। তবে তারা আসার পর যদি মনে করেন; তখন সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএসএমএমইউর কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান সৈয়দ আলী আহসান বলেন, আমি আগেও বলেছি, ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা না গেলে কিছু বলা যাবে না। এখনো উনি ক্রিটিক্যাল অবস্থায় আছেন। এ জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি।

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান দুইজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। 

সকাল থেকে হাসপাতালে ওবায়দুল কাদেরকে দেখার জন্য ভিড় করে আছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেলে গিয়ে তাকে দেখে এসেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে পৌঁছে ডি ব্লকের দোতলায় কার্ডিওলজি বিভাগে যান রাষ্ট্রপতি। এর আগে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানে যান। রাষ্ট্রপতির কয়েক মিনিট পর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীও হাসপাতালে পৌঁছান। দলের সাধারণ সম্পাদকের সুস্থতার জন্য দেশবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে দোয়া কামনা করেছে আওয়ামী লীগ।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ