img

 এম. সোলায়মান

জানুয়ারি মাসের কোন এক রাতের কথা বলছি। ঘড়ির কাটায় তখন ১১ টা বাজে। গন্তব্য গুলশান-২ হয়ে বনানী। নিকেতন দুই নাম্বার গেট দিয়ে বের হয়ে পুলিশ প্লাজার সামনে দিয়ে সিএনজি করে যাচ্ছিলাম। পুলিশ প্লাজা কনকর্ডের উত্তর পাশে চোখে পড়ল পুলিশ চেকপোষ্ট। আমার গাড়ি ওখানে পৌঁছতে না পৌঁছতেই হাতে ইশারা দিয়ে গাড়িটি থামালেন একজন। তাদের দাবি নিরাপত্তাজনিত কারণে আপনাকে তল্লাশি করা হবে। কোনো কথা না বলে গাড়ি থেকে আপোষে নেমে গেলাম। সঙ্গে থাকা ব্যাগ খুলে দিলাম এবং বললাম আপনাদের দায়িত্ব পালন করুন। ব্যাগের মধ্যে একটি ক্যামেরা কয়েকটি বই ও কিছু পত্রিকা ছাড়া আর কিছুই পেলেন না। তখন এক পুলিশ সদস্য মুচকি হেসে বললেন ভাই আপনি এখন যেতে পারেন। আমিও সেই সুযোগে একটু মুচকি হেসে ভীতিকণ্ঠেই বললাম, আপনারা আমাকে তল্লাশি করলেন অমনোযোগী হয়ে তাও আবার শুধু ব্যাগটি দেখেই ছেড়ে দিলেন কিন্তু আপনি যা সন্দেহ করলেন তা যদি ব্যাগে না হয়ে প্যান্টের পকেটে কিংবা শরীরে অন্য কোথাও থাকে তবে আপনাদের এই নিরাপত্তার নামে তল্লাশি প্রশ্নবিদ্ধ হবে না? পাশ থেকে একজন এস আই বলে উঠলো আপনার এতো জ্ঞান দেয়া লাগবে না... যান যান! আমি আর কথা না বাড়িয়ে ড্রাইভারকে বললাম চলেন আমরা এবার সামনে আগাই। ওখানে বসে তাদের সঙ্গে তর্ক করা মানে নিজের বিপদ নিজে ডেকে আনা। কি কারণে ভয় পেয়েছি তা আপনারা নিশ্চই অনুধাবন করতে পারছেন। 

পরে বিষয়টি নিয়ে গভীর ভাবে চিন্তা করলাম। আমরা কতটা অনিরাপত্তায় বসবাস করছি। পুলিশ তাদের দায়বদ্ধতা এড়ানোর জন্য নাটকীয় তল্লাশি করছেন। এমন তল্লাশির কোনো মানে হয়? পুলিশের চেকপোষ্ট দিয়ে প্রকৃত অপরাধিরা ঠিকই বেড়িয়ে যাচ্ছে! অনেক সময় পুলিশের সামনেই অহরহ দুর্ঘটনা ঘটতে দেখি, যা আমরা কখনই প্রত্যাশা করিনা। আবার এটাও বলতে চাই সব পুলিশই যে খারাপ তা কিন্তু নয়। দায়িত্ববান পুলিশও আমাদের চোখে পড়ে তবে তাদের সংখ্যাটা খুবই কম। দেশের সব কর্মক্ষেত্রেই ভাল-মন্দ মানুষ আছে। কিন্তু দু:খের বিষয় হলো খারাপের সংখ্যাটা দিন দিন বেড়েই চলছে।

এই ঘটনাটি তুলে ধরলাম এই কারণে- যে গত রোববার সব থেকে আলোচিত যে ঘটনা তা হলো আকাশ পথে বাংলাদেশী এক যুবকের বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টার ঘটনা নিয়ে। এ ঘটনা দেশ-বিদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করছে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে যে বিমানবন্দরে ঢুকতে যেখানে ছোট নেইল কাটার, খেলনা পিস্তলও শনাক্ত করার সিস্টেম আছে, সেখানে নিরাপত্তাবলয় পেরিয়ে অস্ত্র নিয়ে ভেতরে যাওয়া সম্ভব হলো কীভাবে? আমি এখানে স্পষ্ট করে বলতে চাই নিরাপত্তা বিভাগের উদাসিনতায় এটা হয়েছে। এর থেকেও বড় বিপদ বিমানবন্দরে হতে পারতো, তখন তার দায়বদ্ধতা কে নিতো? আমাদের অস্বীকারের সুযোগ নেই যে, দেশের বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন চোখে পড়ার মত কিন্তু এত উন্নয়নের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই বলছি নিরাপত্তা ব্যবস্থা এতো দুর্বল হলে তা সত্যিই দেশের মানুষের জন্য দুর্ভাগ্যের ব্যাপার এবং হতাশাজনক। এমন পরিস্থিতি আমরা কিছুতেই কামনা করি না। তাই প্রশাসন বিভাগকে অনুরোধ করবো দেশের স্বার্থে আপনাদের দায়িত্বগুলো ঠিক ভাবে পালন করুন। মনে রাখবেন আপনাদের বেতন-ভাতাদি আমাদের মত সাধারণ মানুষের শ্রমের টাকায় হয়। আমাদের দেখভাল করার দায়িত্ব আপনাদের এটা কখনো এড়িয়ে যেতে পারেন না। 

এম. সোলায়মান, সাংবাদিক


 

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ