img

পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফাল্গুনের শুরুতে বৃষ্টি কৃষির জন্য আর্শিবাদ হলেও রোববার সকালের এ বৃষ্টি কয়েকটি স্থানে কৃষকের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাাঁড়িয়েছে। কারণ সেসব এলাকায় ঝড় ও বজ্রসহ শিলাবৃষ্টি হওয়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়িও।

প্রতিনিধি, ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:

ঢাকা: ভোর সাতটার কিছুক্ষণ পর রাজধানীতে শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। সঙ্গে বিদ্যুৎ চমকাতে থাকে ঢাকার আকাশে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী। বিপাকে পড়ে স্কুল-কলেজ ও অফফিসগামীরা। শিক্ষার্থীরা। যানবাহন কমে যাওয়ায় অনেকেই নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে যেতে পারেনি। তবে কেউ কেউ বলেছেন, ঢাকার ধূলা দূষণ কিছুটা কমিয়েছে এ বৃষ্টি।

রাজশাহী: শিলাবৃষ্টিতে আমের মুকুল, পেঁয়াজ, রসুন, গম, ভুট্টা, কলাবাগানসহ ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়। পুঠিয়ার জিউপাড়া ও ভাল্লুকগাছি ইউনিয়নের গ্রামগুলোর রাস্তা ও ফসলের জমিতে বরফের পুরু স্তর জমে যায়।

পুঠিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনজুরে মাওলা পরিদর্শনে এসে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই এমন শীলা ঝরার ঘটনা ঘটেছে। দুপুরে পরিদর্শনে আসেন স্থানীয় সাংসদ ডা. মনসুর রহমান, ইউএনও মো. ওলিউজ্জামান ও আওয়ামী লীগ নেতা ও উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জিএম হিরা বাচ্চু।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শামসুল হক বলেন, জেলায় ১ হাজার ২০১ হেক্টর জমির পেঁয়াজ, ৩৬০ হেক্টর জমির রসুন, ৩২১ হেক্টর জমির গমসহ ২হাজার ১৮২ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। তা নিরূপণের কাজ চলছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক গোলাম সাব্বির সাত্তার তাপু বলেন, এতো বেশি শীলাবৃষ্টি হওয়াটা নজিরবিহীন এবং উদ্বেগজনক। বেশ কয়েক বছর আগে বড় বড় শীলা ঝরতে দেখা গেছে। এবার শীলা বড় না হলেও প্রচুর পরিমাণে ঝরেছে। বিষয়টি নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন।

সিলেট: জেলার বিভিন্ন স্থানে শিলাবৃষ্টির সঙ্গে দীর্ঘ সময় ঝড়ও হয়। এতে আমের মুকুলসহ ধান ও গাছপালার কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে বাতাস থাকায় বিভিন্ন স্থানে কাচাঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেটের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ সাইদ আহমদ চৌধুরী জানান, এটা শীত মৌসুমের শেষ বৃষ্টিপাত। বৃষ্টির মধ্য দিয়ে শীতকে বিদায় জানানো বলা চলে। তিনি জানান, সিলেটের বিভিন্ন স্থানে সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। ভোর ৬টার পর শিলাবৃষ্টি হয়।

নগরী ছাড়াও জেলার জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, গোয়াইনঘাটসহ বিভিন্ন উপজেলায় শিলাবৃষ্টি হয়েছে।

হবিগঞ্জ: সকাল থেকেই হবিগঞ্জের উপর দিয়ে মৃদু ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। বানিয়াচংয়ের বড় বাজার এলাকায় ব্যাপক শিলাবৃষ্টি হয়। এছাড়া সদর, আজমিরীগঞ্জ, চুনারুঘাট ও মাধবপুরের বেশ কিছু স্থানে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে বেশ কিছু জায়গায় আমের মুকুল ঝড়ে যাওয়াসহ সব্জির ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে।

বানিয়াচংয়ের ইউএনও মামুন খন্দকার বলেন, ব্যাপক শিলাবৃষ্টি হলেও কোনও ক্ষয়-ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ