img

রাজধানীর গুলশানের কালাচাঁদপুর এলাকার একটি বাসায় এক গারো কিশোরী (১৬) গৃহকর্তার ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

বুধবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে গৃহকর্ত্রী মেয়েটিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্ত গৃহকর্তা ইউসুফকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

গৃহকর্ত্রী  জানান, তার স্বামী ইউসুফ একটি মোবাইল ফোন কোম্পানিতে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করেন। তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে রান্নার কাজ করেন। কালাচাঁদপুর এলাকার ভাড়া বাসায় থাকেন তারা। গত ২৬ জানুয়ারি তার বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজে যোগ দেয় পূর্বপরিচিত ওই গারো কিশোরী। বুধবার সকালে তিনি (গৃহকর্ত্রী) নিজের কাজে চলে যান। পরে দুপুরের দিকে ইউসুফ তাকে ফোন করে বাসায় যেতে বলেন। তিনি বাসায় গিয়ে ওই কিশোরীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এর মধ্যে মেয়েটি জানায়, ইউসুফ তাকে দুইবার ধর্ষণ করেছে। ঘটনার পর থেকে ইউসুফ পলাতক।

গৃহকর্ত্রী আরও জানান, তার গ্রামের বাড়ি শেরপুরের ঝিনাইগাতি এলাকায়। ধর্ষণের শিকার কিশোরীর বাড়িও একই এলাকায়। এই সূত্রে তারা পরস্পরকে আগে থেকেই চিনতেন। তারা দু'জনই গারো সম্প্রদায়ের। তবে তিনি বাঙালি ছেলেকে বিয়ে করে ধর্মান্তরিত হয়েছেন।

গুলশান থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক সাংবাদিকদের জানান, ধর্ষণের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এর আগেও রাজধানীতে গারো কিশোরী-তরুণীকে ধর্ষণের কয়েকটি ঘটনা ঘটে। ২০১৬ সালের ২৫ অক্টোবর রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় এক গারো তরুণীকে ধর্ষণ করা হয়। ওই বছরের ১১ নভেম্বর ধর্ষণে অভিযুক্ত রুবেলকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। তার আগে ২০১৫ সালের জুলাইয়ে উত্তরার কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে আরেকজনকে ধর্ষণ করে তারই কয়েক সহকর্মী। একই বছরের মে মাসে বাসায় ফেরার পথে আরও একজনকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়।

শিশু ও তরুণী ধর্ষণের শিকার: মগবাজারের টিঅ্যান্ডটি কলোনি এলাকায় আট বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিশুটির বাবার অভিযোগ, তিন মাস আগে তার স্ত্রীর সহায়তায় ধর্ষণের ওই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনি হাতিরঝিল থানায় মামলা করেছেন।

হাতিরঝিল থানা পুলিশ জানায়, ধর্ষণে অভিযুক্ত মিন্টুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিশুটির মাকেও খোঁজা হচ্ছে।

শিশুটির বাবা পেশায় গাড়িচালক। তার ভাষ্য, পেশাগত কারণে বেশিরভাগ সময় তিনি বাসার বাইরে থাকেন। ওই সময় বাইরের লোকজন তার বাসায় যেত এবং তার স্ত্রীর সঙ্গে সময় কাটাত। সেই লোকদের মধ্যে মিন্টু নামে একজন তার মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। এক্ষেত্রে তার স্ত্রীরও হাত রয়েছে।

এদিকে কাজের সন্ধানে ঢাকায় আসা এক তরুণী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। গত ১০ ফেব্রুয়ারি রূপনগরের বাসায় এ ঘটনা ঘটে। রূপনগর থানা পুলিশ জানায়, ওই তরুণী ভোলা থেকে ঢাকায় এসে তার খালাত বোনের বাসায় থাকছিলেন। তার বোন গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করেন। ঘটনার দিন সাথী নামে এক নারী কাজ দেওয়ার কথা বলে তাকে ডেকে এক বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে তাজুল ইসলাম ও সোহেল তাকে ধর্ষণ করে। অভিযুক্তদের এখনও গ্রেফতার করে পারেনি পুলিশ।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ