img

গাইবান্ধায় প্লাস্টিকের চাল বিক্রির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, এ খবরের কোনো ভিত্তি নেই। এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তারা সেখানে গিয়ে সেই চাল এনেছে। এরপর রান্না করেছে, মুড়ি বানিয়েছে। সেটা কোনোক্রমেই প্লাস্টিকের চাল নয়। এ ব্যাপারে মিডিয়াকে আরও তৎপর হতে হবে, যেন মানুষ বিভ্রান্ত না হয়।

বুধবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসিরুজ্জামান এবং রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে খুব সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দুই দেশের স্বার্থসংশ্নিষ্ট নানা বিষয়ে কথা হয়েছে। বাংলাদেশের কৃষি ক্ষেত্রে অভাবনীয় অর্জনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন রাষ্ট্রদূত। এ ছাড়া অতীতের মতো বাংলাদেশের উন্নয়নের অংশীদার হতে চায় তারা।

রবার্ট মিলার বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে রাজনৈতিক পরিবেশ অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক ভালো। বিনিয়োগের পরিবেশ বিরাজ করছে। অর্থনৈতিক গতিশীলতার জন্য এটি অপরিহার্য। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।

এদিকে গাইবান্ধার সেই চাল পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী জানান, তা পরীক্ষা করে দেখা হবে। এ ছাড়া গাইবান্ধায় কৃষিবিদরা দেখছেন। তবে তা প্লাস্টিকের চাল হওয়া অসম্ভব। তাছাড়া দেশে চাল এখন উদ্বৃত্ত। চাষিরা চাল বিক্রি করতে পারছেন না। এ অবস্থায় প্লাস্টিকের চাল কোথা থেকে আসবে?

এ সময় কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, নিরাপদ ও পুষ্টিমান সমৃদ্ধ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। সরকারের লক্ষ্য গ্রাম পর্যায় থেকে দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করা। শহরের সব সুযোগ-সুবিধা গ্রামে পৌঁছে দেওয়া। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে মৌলিক সেবাগুলো জনগণের আরও কাছাকাছি পৌঁছে দেওয়ার জন্য ই-গভর্ন্যান্স ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারেও এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষির উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র সরকার সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। বিশেষ করে কৃষির আধুনিকায়ন, বাজারজাতকরণ, যান্ত্রিকীকরণে সহায়তা করবে। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত এ খাতে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানো, কৃষির গবেষণা ও প্রশিক্ষণেও সহায়তার কথা বলেছেন। কারণ, কৃষি খাতে বাংলাদেশের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে একটা বড় আধুনিক ল্যাবরেটরি করার ঘোষণা দিয়েছেন জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, সেখানে খাদ্যে ভেজাল দ্রুত নির্ণয় করা যাবে। 

এ ছাড়া আট বিভাগে আরও আটটি ল্যাব করা হবে। এসব ল্যাবরেটরিতে যন্ত্র চালানোর জন্য প্রশিক্ষিত জনবল দরকার। সে জন্য যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ