img

নদীতীর থেকে প্রায় ৮০ ফুট দূরে গড়ে তোলা হয়েছে একটি তিনতলা ভবন। এর পাশেই লোহার পাত দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে আরও কিছু স্থাপনা। উচ্ছেদের তোড়জোড় দেখে গ্যাস কাটার মেশিন দিয়ে আগেভাগেই লোহার পাতগুলো কেটে রেখেছিলেন কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্সের মালিক ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রশিদ। তিনতলার মূল স্থাপনাকে রক্ষা করতে এমন কৌশল নিয়েছিলেন তিনি; কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। তিনতলা ভবনের যে অংশটি অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছিল, তা বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দিয়েছে জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদকারী দল।

শুধু কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্সই নয়, সোমবার উচ্ছেদ অভিযানের প্রথম দিনেই ছোট-বড় এমন শতাধিক স্থাপনা ভেঙে ফেলেছে তারা। সরকারি ছয়টি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে দুই শতাধিক র্যা ব, পুলিশ ও আনসার সদস্য নিয়ে জেলা প্রশাসনের দুই ম্যাজিস্ট্রেট শুরু করেছেন উচ্ছেদ অভিযান। এদিকে উচ্ছেদ অভিযানের প্রথম দিনেই তা বন্ধ করতে বিভিন্ন দিক থেকে হুমকি পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন।

হাইকোর্টের নির্দেশে কর্ণফুলী নদীর দুই পাড়ে দুই হাজার ১৮১টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। তালিকা ধরে এখন এসব স্থাপনা উচ্ছেদে নেমেছে তারা।


উচ্ছেদ অভিযানে থাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমান মুক্ত বলেন, 'নদীর পাড়কে আমরা কয়েকটি পয়েন্টে ভাগ করেছি। প্রথম ধাপ হচ্ছে সদরঘাট থেকে বারিক বিল্ডিং মোড় পর্যন্ত। এ এলাকায় প্রায় ২০০ অবৈধ স্থাপনা আছে। সেগুলো উচ্ছেদ করতে পারলে ১০ একর ভূমি উদ্ধার হবে।

অভিযানে থাকা আরেক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুর রহমান বলেন, প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ করে পরের ধাপে আরও দুটি পয়েন্টে উচ্ছেদ অভিযান চলবে। সেগুলো হলো- বারিক বিল্ডিং মোড় থেকে পতেঙ্গা এবং সদরঘাট থেকে চাকতাই।

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী সোমবার সকাল ৯টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর সদরঘাটে লাইটার জেটি এলাকায় অবস্থান নেয় উচ্ছেদকারী দল। বুলডোজার, পে-লোডার, অগ্নিনির্বাপক গাড়িসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম আগেই প্রস্তুত রাখা হয়। প্রথম দফায় লাইটারেজ জেটি এলাকায় 'সদরঘাট সাম্পান চালক সমবায় সমিতি' নামে একটি সংগঠনের অবৈধ কার্যালয়, যাত্রী ছাউনি, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) একটি লোহার স্থাপনা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বাঁশের বেড়া ও টিনের ছাউনি দিয়ে তৈরি কয়েকটি ছাপড়াঘরও ভাঙা হয়। এরপর অভিযান শুরু হয় পাশের কর্ণফুলী ঘাট এলাকায়। সেখানে নদীপাড় দখল করে গড়ে ওঠা কয়েকটি টিনের ছাপড়াঘর ভেঙে দেওয়া হয়। এ সময় অনেককে নিজ উদ্যোগে আসবাবপত্র সরাতে দেখা যায়।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ