img

নোয়াখালীর হাতিয়ায় নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজের প্রায় ৪ মাস পর দগ্ধ অবস্থায় রাহেনা আক্তার (১৬) নামের এক কিশোরীকে চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তার শরীরে ক্ষত দাগ রয়েছে। 

রোববার রাতে চট্টগ্রামের কালুরঘাট সেতুর নিচে থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে নোয়াখালিতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে রাখা হয় রাহেনা আক্তারকে। সোমবার সন্ধ্যার পর  নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। 

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকা সন্দেহ সুমন নামের এক যুবককে আটক করেছে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ। তবে ঘটনার মূলহোতারা এখনো পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) সৈয়দ মহি উদ্দিন আব্দুল আজিম বলেন, কিশোরী ও তার পরিবারের ভাষ্যমতে তার শরীরে এসিড নিক্ষেপ করা হয়েছে। তার শরীরের প্রতিটি অংশে ক্ষত রয়েছে। তাই হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য এসিড নিক্ষেপের বিষয়টি প্রমাণের জন্য ঢাকায় স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার রাতে অথবা মঙ্গলবার ভোরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে।

সুধারাম মডেল থানার (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি হাসপাতালে গিয়ে কিশোরীকে দেখে এসেছেন। প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে সুমন নামের এক যুবককে আকট করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আহত কিশোরীর মা সামছুন নাহার বলেন, প্রায় ৪ মাস আগে প্রতিবেশী জামাল উদ্দিনের মেয়ে রিনা আক্তার আমার বাড়িতে এসে নেশা জাতীয় দ্রব্য দিয়ে রাহেনাকে অচেতন করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। রাহেনাকে না দেখতে পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোজাখুঁজি করেন। রিনা বাড়ি থেকে রাহেনাকে নিয়ে গেছে বলে তার বড় ছেলের শাশুড়ি তাকে জানান। তবে রিনা তা অস্বীকার করে।

তিনি কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, নিখোঁজের কয়েক দিন পর রাহেনা একটি অপরিচিত নম্বর থেকে তাকে কল দিয়ে বলে ‘মা আমি রাহেনা’ এ কথা বলার পরই কল কেটে যায়। এরপর থেকে তারা রাহেনার আর কোন সন্ধান পাননি। রোববার গভীর রাতে পুনরায় একটি অপরিচিত নম্বর থেকে রাহেনার মায়ের কাছে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি কল দিয়ে রাহেনার অসুস্থ হওয়ার বিষয়টি অবগত করলে রেহানার পরিবারের লোকজন চট্টগ্রামের কালুরঘাট ব্রিজের নিচ থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় রাহেনাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী নিয়ে আসে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাহেনা জানায়, রিনার মামী আলেয়া আক্তার তার মাইজদীস্থ বাসায় রেখে তাকে প্রচণ্ড মারধর করতো। বিনা কারণে ও তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে আলেয়া আক্তার তাকে নির্যাতন করতো। শরীরে কখনো গরম পানি ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হতো। সর্বশেষ শরীরে এসিড দিয়ে পুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ব্যথা ও যন্ত্রনায় কান্নাকাটি করলে মুখে কাপড় গুজে দিয়ে মারধর করতো। খাবারও দিতো না। সারা শরীরে পঁচন ধরে গন্ধ বের হলে রোববার রাতে একটি গাড়িতে করে তাকে চট্টগ্রামের কালুরঘাট ব্রিজের কাছে ফেলে যায় তারা।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ