img

তানোর উপজেলার বহরইল গ্রামের বাসিন্দারা বলছেন, অজ্ঞাত রোগে সেখানকার অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে মৃত্যু আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে উচ্চপর্যায়ের টিম নিয়ে ওই গ্রাম ঘুরে এসে জেলা প্রশাসক এসএম আবদুল কাদের বলেছেন, অজ্ঞাত রোগে নয় বরং চিহ্নিত বিভিন্ন রোগেই তারা মারা গেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত রোববার ভোরে সর্বশেষ মারা গেছেন বহরইল গ্রামের পল্লী চিকিৎসক ইমাম আলী বাবু (৩৮)। এ নিয়ে এক সপ্তাহে মারা গেছেন ৬ জন। গত সপ্তাহের শনিবার নূরী বিবি (৬৫), জনাব আলী (৪৫) ও চার দিনের এক শিশু মারা যায়। এর একদিন পর সোমবার সমসের আলী (৬৫) এবং চলতি সপ্তাহের শনিবার রাহেলা বেগম (৪৮) মারা যান। এছাড়া অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।

বহরইল গ্রামের ইউপি সদস্য আবদুল লতিফ জানান, গত শনিবার রাত ৮টার দিকে বৈদ্দপুর বাজারে নিজের ফার্মেসিতে পল্লী চিকিৎসক ইমাম আলী বাবু হঠাৎ করে শরীর ঝাঁকুনি দিয়ে ওঠার পর জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে স্থানীরা তাকে বাড়ি নিয়ে যান। রাতে তার অবস্থার অবনতি হলে ভোরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তিনি। তবে গত কয়েকদিনে ওই গ্রামে আরও ৫ জন মারা যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করছিলেন ওই পল্লী চিকিৎসক।

বাধাইড় ইউপি চেয়াম্যান আতাউর রহমান বলেন, বহরইল গ্রামে এক সপ্তাহ ধরে অজ্ঞাত রোগে প্রতিদিন সুস্থ মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। কয়েকদিনে ছয়জন মারা গেছেন। বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে এলাকার মানুষকে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের গ্রামেও।

তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রোজিয়ারা খাতুন স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, সুস্থ মানুষের হঠাৎ বুক জ্বালা, শরীরে ব্যথা ও ঝাঁকুনি শুরু হচ্ছে। এরপর জ্ঞান হারিয়ে তারা হাসপাতালে আসছেন বলে চিকিৎসকদের জানিয়েছেন। মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে একই রকম লক্ষণ প্রকাশে। 

তিনি আরও জানান, মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে ১০ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম গত শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বহরইল গ্রামে গিয়ে মৃত্যুর কারণ ও নমুনা সংগ্রহ করেছে। এর আগে গত শুক্রবার পাঁচ চিকিৎসকের একটি টিম ওই গ্রাম পরিদর্শন করেন। তারা গ্রামবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, এসব মৃত্যুর ঘটনা বিভিন্ন কারণে হয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. সঞ্জিত কুমার সাহা জানান, সোমবার জেলা প্রশাসকসহ ঢাকা থেকে আসা উচ্চ পর্যায়ের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। কিন্তু অজ্ঞাত কোনো রোগের লক্ষণ দেখা যায়নি। সাত মাসে প্রসব হওয়া এক কেজি ওজনের একটি শিশু মারা গেছে। এ ছাড়া কেউ কেউ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। একজন বার্ধক্যজনিত কারণে মারা গেছেন। একজন দীর্ঘদিন ধরে পা ভেঙে বিছানায় পড়ে থেকে রোগভোগের পর মারা গেছেন।

জেলা প্রশাসক এসএম আবদুল কাদের বলেন, সুনির্দিষ্ট বিভিন্ন রোগে এসব মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু এক সপ্তাহে এতগুলো মানুষের মৃত্যুর কারণে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের মনে সবসময় মৃত্যুভয় কাজ করছে। আমরা তাদের আতঙ্কিত না হতে বলে এসেছি।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ