img

অবসরের পরও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা রেশন সুবিধা চান। আমৃত্যু পরিবারের অন্তত দু'জন সদস্য রেশন সুবিধার আওতায় থাকতে আগ্রহী। আর তা বাস্তবায়ন হলে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সঙ্গে মানানসই হবে বলে মনে করছেন পুলিশের নীতিনির্ধারকরা। বর্তমানে কর্মরত অবস্থায় পুলিশের যে কোনো সদস্য তার পরিবারের সর্বোচ্চ চার ব্যক্তির জন্য রেশন পেয়ে থাকেন। প্রতিবারের মতো এবারও পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে বাহিনীর পক্ষ থেকে বেশ কিছু দাবি-দাওয়ার বিষয় সামনে আসতে পারে। সেখানে রেশন সুবিধা চাওয়ার বিষয়টি উত্থাপিত হবে। সংশ্নিষ্ট একটি দায়িত্বশীল সূত্র থেকে গতকাল রোববার এ তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক নুরুল হুদা বলেন, সরকারের সামর্থ্যে যদি কুলায়, তাহলে অবসরের পরও পুলিশ সদস্যদের রেশন সুবিধা দিতে পারে। অন্যান্য দেশের পুলিশ এ ধরনের সুবিধা পায় কি-না, তাও দেখা দরকার।

আজ সোমবার শুরু হচ্ছে পুলিশ সপ্তাহ-২০১৯। রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে  কল্যাণ প্যারেডে অংশগ্রহণ করবেন তিনি।

দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এখন পুলিশের সদস্যরা রেশন হিসেবে পাঁচ ধরনের জিনিসপত্র পেয়ে থাকেন। তা হলো চাল, ডাল, তেল, আটা ও চিনি। স্বামী-স্ত্রী ও এক সন্তানসহ কারও পরিবারের তিন সদস্য হলে মাসে ৩০ কেজি চাল, ২০ কেজি আটা, পাঁচ কেজি ডাল, ছয় লিটার তেল ও চার কেজি চিনি পেয়ে থাকেন। কারও পরিবারের সদস্য স্বামী-স্ত্রীসহ চারজন হলে প্রতি মাসে ৩৫ কেজি চাল, ৩০ কেজি আটা, আট কেজি ডাল, আট লিটার তেল ও পাঁচ কেজি চিনি পেয়ে থাকেন। স্বামী-স্ত্রীসহ সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য রেশন সুবিধা দেওয়া হয়। কারও পরিবারের একজন সদস্য হলে এ হিসেবে রেশন পান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেনাবাহিনীতে অবসরকালীন রেশন সুবিধা নেই। তবে অবসরে যাওয়ার পর সেনাবাহিনীর সদস্যরা প্রতি মাসে 'খাবার ভাতা' পেয়ে থাকেন। স্বামী-স্ত্রী মিলে অবসরকালীন ভাতার পরিমাণ প্রায় এগারোশ' টাকা। তবে কারও সন্তানের বয়স ১৮ বছরের নিচে হলে তিনিও সব পরিমাণ খাবার ভাতা পান। কিন্তু অবসরের পর অধিকাংশ সদস্যের সন্তানের বয়স আঠারোর কোঠা পেরিয়ে যায়।

রেশন ছাড়াও এবারের পুলিশ সপ্তাহে এ বাহিনীর সদস্যদের জন্য একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের বিষয়টি সামনে আসতে পারে। এ ছাড়া পুলিশের হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা ও জেলা পর্যায়ে বাহিনীর সদস্যদের জন্য চিকিৎসার মান বাড়ানোর বিষয়ে দাবি জানানো হবে। এমনকি পুলিশের কোনো সদস্য আহত হলে তার চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্স সুবিধার বিষয়টিও তুলে ধরা হবে।

পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে কনস্টেবল থেকে এসআই পর্যন্ত ঝুঁকি-ভাতা দেওয়া হয়। তবে পুলিশের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, সব সদস্যের জন্য ঝুঁকি-ভাতা থাকলে ভালো। তাদের যুক্তি, অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশনে গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারাও প্রাণ হারিয়েছেন। বিশেষ জঙ্গিবিরোধী অপারেশনে পুলিশ বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। ২০১৬ সালে গুলশানে হলি আর্টিসানে জঙ্গি হামলা প্রতিরোধ করতে গিয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তা নিহত হন। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। এ ছাড়া সিলেটে জঙ্গি হামলা মোকাবেলা করতে গিয়ে র‌্যাবের তৎকালীন গোয়েন্দা শাখার প্রধান লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ ও একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। এসব দুর্ঘটনা বিশ্নেষণ করে পুলিশের অনেকের ভাষ্য, কনস্টেবল থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় সব পদমর্যাদার সদস্যের জন্য রেশন সুবিধা দেওয়া যৌক্তিক।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ