img

সম্প্রতি বেড়েছে আত্মহত্যার ঘটনা। পারিবারিক কারণ থেকে শুরু করে স্কুলশিক্ষার্থীরাও হত্যার মতো জঘন্য কাজটি করছে।আত্মহত্যা মহাপাপ বিষয়টি আমরা জানি। তবে মানুষ যখন নিজের ওপর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে তখন আত্মহননের পথটি বেছে নেয় বলে মনে করেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা।

গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার থেকে চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশের লাশ উদ্ধার করা হয়। দাম্পত্য কলহের কারণে আত্মহত্যা করেন এই চিকিৎসক।

মৃত্যুর এক ঘণ্টা আগে তিনি নিজের ফেসবুকে স্ত্রীর উদ্দেশে একটি স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসটিতে স্ত্রীর প্রতি তার অভিমান ও ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। ডা. আকাশ স্ট্যাটাসে স্ত্রীর উদ্দেশে লেখেন- ‘ভালো থেকো, আমার ভালোবাসা তোমার প্রেমিকাদের (প্রেমিকদের) নিয়ে।’

নিহত আকাশ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বরকল এলাকার মৃত আবদুস সবুরের ছেলে। তিনি এমবিবিএস শেষ করে এফসিপিএস পড়ছিলেন। এর আগে নিজের ফেসবুকে আরও কয়েকটি স্ট্যাটাস দেন আকাশ। যেগুলো দেখলে যে কেউ বুঝবেন, আকাশ প্রচণ্ড অভিমান থেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। স্ত্রীর আচরণে বিরক্ত ছিলেন তরুণ এ চিকিৎসক। স্ত্রীর চরিত্র নিয়েও খোলামেলা লিখেছেন তিনি। স্ত্রী তানজিলা হক মিতুর প্রতি পরকীয়া ও অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ তোলেন আকাশ।

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যা করা চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরী মিতুর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানায় মোস্তফা মোরশেদের মা জোবেদা খানম এ মামলা করেন। মামলায় স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানায় ওসি আবুল বাসার  বলেন, চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে ৩০৬ ধারায় তার স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

এ বিষয়ে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বলেন, ডা. আকাশ মৃত্যুর ঘটনাটি অবশ্যই আত্মহত্যায় প্ররোচনার। তার ফেসবুকের স্ট্যাটাস থেকে এটা স্পষ্ট যে ডা. আকাশ দাম্পত্য জীবনে সুখী ছিলেন না। তিনি প্রচণ্ড মানসিক চাপে আত্মহত্যার করেছেন।

প্ররোচনা কীভাবে হতে পারে?

মানুষকে নেতিবাচকভাবে ও মানসিকভাবে আকার-ইঙ্গিত বা কাজের দ্বারা দুর্বল করে তার বেঁচে থাকাটা অর্থহীন করে তোলা যায়। কোনো মানসিক রোগীকে যদি বোঝানো হয় যে, সে সমাজের পরিবারের বোঝা, তাকে দিয়ে কিছু হবে না। তার বেঁচে থাকাটা অপ্রয়োজনীয়, তবে তা আত্মহত্যায় প্ররোচনাদায়ক। অমুককে বাঁচানোর জন্য তমুককে বিপদে ফেলে দেয়া প্ররোচনা। তিলে তিলে কারও স্বপ্ন আশা ভেঙে দিয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনা। তীব্র অপমান, তুচ্ছতাচ্ছিল্য, উত্তেজিত করা কাউকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা।

আইন কী বলে?

বাংলদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩০৬ ধারা অনুযায়ী-ব্যক্তির আত্মহত্যায় প্ররোচনার শাস্তি ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং জরিমানা। তবে আত্মহত্যা করতে গিয়ে না মরলে আপনাকে আত্মহত্যা বা নিজেকে ধ্বংস করার অপচেষ্টার অপরাধে এক বছরের জেলে যেতে হতে পারে। দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারামতে, যদি আপনি আত্মহত্যা করার উদ্যোগ নেন এবং অনুরূপ অপরাধ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে কোনো কাজ করেন তা হলে আপনার এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা হতে পারে বা উভয় শাস্তিই হতে পারে।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ