img

আগামী ১ ও ২ ফেব্রুয়ারি (শুক্র ও শনিবার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বরে অনুষ্ঠিত হবে ৩৩তম জাতীয় কবিতা উৎসব। এবারের স্লোগান 'বাঙালির জয় কবিতার জয়'। শুক্রবার সকালে উৎসব উদ্বোধন করবেন প্রখ্যাত কবি আসাদ চৌধুরী। সারা দেশের কবিদের সঙ্গে এবারের উৎসবে অংশ নেবেন ৯ দেশের আমন্ত্রিত ১৪ জন কবি। নিবন্ধিত কবিদের কবিতাপাঠ, মুক্ত আলোচনা, আবৃত্তি, সেমিনার, ছড়াপাঠসহ মোট ১০টি অধিবেশনে সাজানো হয়েছে দু'দিনের উৎসব।

বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে জাতীয় কবিতা পরিষদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উৎসবের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি তারিক সুজাত। ঘোষণাপত্র পাঠ করেন কবি রবিউল হুসাইন। পরিষদের সভাপতি কবি মুহাম্মদ সামাদের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন পরিষদের বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কবি নূহ-উল আলম লেনিন, কবি কাজী রোজী, আনজির লিটন, দিলারা হাফিজ, আনোয়ারা সৈয়দ হক, আমিনুর রহমান সুলতান প্রমুখ।

উৎসবে ভারতের কবিদের মধ্যে অংশ নিচ্ছেন জ্যোতির্ময় দত্ত, মিনাক্ষী দত্ত, রাতুল দেব বর্মণ, বীথি চট্টোপাধ্যায় ও শিবান্তি ঘোষ। এ ছাড়া অংশ নিচ্ছেন যুক্তরাজ্যের ক্লেয়ার বুকার, তুরস্কের তারিক গুনারসেল, ইরাকের ড. আলি আল সালাহ, কঙ্গোর কামা কামান্ডা, স্পেনের জুলিও পাভানেত্তি, উরুগুয়ের আনাবেল ভিলার, চীনের ড. তানজিয়ান চাই, মালয়েশিয়ার মালিম ঘোজালি ও নেপালের পুষ্প খানাল। 

উৎসবের প্রথম দিনে থাকছে মুক্ত আলোচনা ও নিবন্ধিত কবিদের কবিতাপাঠ এবং আবৃত্তি পরিবেশনাসহ পাঁচটি অধিবেশন। দ্বিতীয় দিনে 'বাঙালির জয় কবিতার জয়' এবং 'কাব্যনাটক' বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। খ্যাতনামা কণ্ঠশিল্পীরা পরিবেশন করবেন কবিতার গান। সেইসঙ্গে থাকবে ছড়াপাঠের আসর। এ ছাড়া এদিনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে ২০১৮ সালের জাতীয় কবিতা পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজীর হাতে তুলে দেওয়া হবে পুরস্কার।

সংবাদ সম্মেলনে ১ ফেব্রুয়ারিকে জাতীয় কবিতা দিবস হিসেবে ঘোষণার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদানে সুষ্ঠু নীতিমালা অনুসরণের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় পুরস্কারগুলোর ক্ষেত্রে সামরিক শাসন আমলে সৃষ্ট নীতিমালা ও পদ্ধতি গণতান্ত্রিক সরকারগুলোও অসতর্কভাবে অনুসরণ করছে। অনেক ক্ষেত্রে এগুলোর বিচার যেমন স্বচ্ছ নয়, তেমনি যারা যোগ্যতা বিচারের কাজে নিয়োজিত তাদের কারও কারও সততা ও যোগ্যতা নিয়ে সংশয় তৈরি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে যেহেতু পুরস্কারপ্রাপ্তরা এই পুরস্কারগুলো গ্রহণ করেন, তাই এর মান-মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বর্তায়। একই সঙ্গে এই বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্তরা সঠিক মূল্যায়ন করতে না পারার দায় এড়াতে পারেন না। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার ক্ষমতায় থাকায় এ বিষয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। একইভাবে শুধু অভিজাত মানুষের জন্য উৎসবের আয়োজন করা কিছু প্রতিষ্ঠানকে ঢালাওভাবে যেন অনুদান না দেওয়া হয় সেটাও বিবেচনায় নিতে হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ