img

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের 'তথ্যভিত্তিক অনিয়ম ও জালিয়াতির' শ্বেতপত্র প্রকাশ করবে বিএনপি। দলের নেতারা বলেছেন, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে মানুষ ভোটের অধিকার হারিয়েছে এবং ৫ থেকে ৭ শতাংশ মানুষ ভোটকেন্দ্রে যেতে পেরেছে। অন্য কাউকে ভোটকেন্দ্রে যেতে দেওয়া হয়নি। এই নির্বাচন করেছে প্রশাসন, পুলিশ ও সরকারের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজন। এ নির্বাচনের সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পর্ক ছিল না। এ ধরনের একটি নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে আগামী ছয় মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচন দিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রতিবাদে আয়োজিত এক মানববন্ধনে বিএনপি নেতারা এসব কথা বলেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বুধবার সকাল ১১টা থেকে এক ঘণ্টার এই মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে দলটি। কর্মসূচিতে মহানগর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী ব্যানার-ফেস্টুন হাতে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে স্লোগান দেন। সকাল সাড়ে ৯টা থেকেই ক্লাবের বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ ও সাদা পোশাকের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা যায়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ১৯৭৫ সালের মতো একই কায়দায় ক্ষমতাসীনরা জনগণের সব অধিকার কেড়ে নিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে সংসদ ও সরকার গঠন করেছে। অবিলম্বে এই নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের মধ্য দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি নির্বাচন পুনরায় অনুষ্ঠান করতে হবে। এর জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, ৩০ ডিসেম্বর ভুয়া নির্বাচন হয়েছে। শুধু সরকার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়ে সম্পূর্ণ ভোট ডাকাতির মধ্য দিয়ে জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করে সংসদ বসিয়েছে। নির্বাচনের আগে থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা হয়েছে। এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে জনগণকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে গণতন্ত্রকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখেই খালেদা জিয়াকে একবছর আগেই মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে গ্রেফতার ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলায় বিদেশে নির্বাসিত করে রেখেছে। এ সময়ে অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিও জানান তিনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ৩০ ডিসেম্বর কোনো নির্বাচন হয়নি। সরকার ও নির্বাচন কমিশন ষড়যন্ত্র করে যে এমপিদের নাম ঘোষণা করেছে এবং একটি সংসদ ঘোষণা করেছে তা সম্পূর্ণ অবৈধ ও তার সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পর্ক নেই।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, এ সংসদ জনগণের সংসদ নয়, জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। এই নির্বাচনের ওপর তথ্যভিত্তিক একটি শ্বেতপত্র বের করবেন তারা। যেখানে দেখা যাবে, মানুষ ভোটের অধিকার হারিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, 'সারাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। দলের কারাবন্দি নেতাকর্মীদের মুক্ত করে তাদের পুনর্বাসন করে নতুন নির্বাচনের জন্য আমাদের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্য নতুন নির্বাচন দিয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য আসুন সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করি।'

আবদুল মঈন খান বলেন, একাদশ সংসদে আজকে যারা প্রতিনিধিত্ব করছেন তারা জনগণের প্রতিনিধি নন। তারা হচ্ছেন ভুয়া ভোটের প্রতিনিধি। এবার প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় ভোট সন্ত্রাস হয়েছে।

মানববন্ধনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শিরিন সুলতানা, এবিএম মোশাররফ হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, যুবদলের মোরতাজুল করিম বাদরু প্রমুখ বক্তব্য দেন।

প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদের পরিচালনায় মানববন্ধনে বিএনপির আতাউর রহমান ঢালী, বিলকিস জাহান শিরিন, জহির উদ্দিন স্বপন, আতাউর রহমান আঙ্গুর, নবী উল্লাহ নবী, মীর নেওয়াজ আলী, হালিমা নেওয়াজ আরলি, ফরিদা ইয়াসমীন, তকদির হোসেন জসিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ