img

জাতীয় সংসদে নিজেদের অবস্থান নিয়ে বিব্রত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অন্যতম শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি।

বুধবার সংসদের বৈঠকে নবনির্বাচিত স্পিকারকে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন দলটির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।

এর আগে বিকেল ৩টায় দশম সংসদের ডেপুটি স্পিকার হিসেবে অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনের বৈঠক শুরু হয়।

নতুন সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে অভিনন্দন জানাতে গিয়ে রাশেদ খান মেনন বলেন, 'একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আমরা আনন্দিত। তবে, এই আনন্দের সঙ্গে সঙ্গে আমরা একটু বিব্রতও বটে। আজকে সংসদে ঢোকার মুখেও আমাকে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। জানতে চাওয়া হয়েছে আপনাদের সংসদে অবস্থান কী হবে।'

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম সংসদের নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোটের শরিক হিসেবে মেননের নেতৃত্বাধীন ওয়ার্কার্স পার্টি ও হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বাধীন জাসদের প্রার্থীরা এমপি হয়ে সংসদে আসেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম সংসদের আগে গঠিত নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় তারা যোগদান করেন।

সর্বশেষ একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময়েও তারা মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পরে আওয়ামী লীগের নতুন সরকারে জোটসঙ্গী কোনো দলের সদস্যই স্থান পাননি। এ নিয়ে জোটের শরিকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে এতদিন নানা গুঞ্জন ছিল।

১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম ইতিমধ্যে বলেছেন, জোটের শরিক দলের সাংসদরা সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও জোটের শরিকদের নিয়ে একই ধরনের মন্তব্য করেছেন।

বুধবার সংসদের শুরুতেই মেনন বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী তার দলের বৈঠকের মধ্যে একটি মন্তব্য করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য অত্যন্ত যৌক্তিক। তিনি বলেছেন- এই সংসদে সরকারি দল যেমনি মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের হবে, তেমনি বিরোধী দলও মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের হবে। আমাদের বলা হচ্ছে আপনারা কেন বিরোধী দলে গিয়ে বসছেন না। বিষয়টি নিয়ে তো আমাদের কেউ জিজ্ঞাসা করবে, প্রশ্ন করবে বা আলোচনা করবে কিন্তু তা হয়নি। মনে হয় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হবে।'

জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে পরাজিতরা ফল প্রত্যাখ্যান করে নতুন করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রেব বীজ বপনের অপচেষ্টা করছে।

স্পিকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, বিগত সময়ের সফলতার ওপর দাঁড়িয়ে ভবিষ্যৎ পাঁচ বছর আপনি নেতৃত্ব দেবেন। দক্ষতা, নিরপেক্ষ ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বিগত দিনে সংসদ পরিচালনা করেছেন। আগামী দিনে বাংলাদেশকে অসাম্প্র্রদায়িক, নিরাপদ ও মুক্তিযোদ্ধার পথে নিয়ে যেতে এই সংসদের নেতৃত্ব আপনাকে দিতে হবে। সংসদকে আমরা প্রাণবন্ত, জীবন্ত ও সক্রিয় করতে চেষ্টা করব।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ