img

 কালীগঞ্জের চুপাইর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত শহীদ ময়েজউদ্দিন আহমেদ এর স্মরণ সভায় যোগ দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের প্রায় ২৬জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৭জনের অবস্থা আশংকাজনক। তাদেরকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ৮অক্টোবর বিকালে চুপাইর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ ময়েজউদ্দিন আহমেদ এর স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়। মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, এমপি’র সভাপতিত্বে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গণি ভূইয়ার স ালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ডাকসু’র সাবেক ভিপি, সাবেক এমপি, আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও গাজীপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আখতারউজ্জান, গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ, গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফী মেহেদী হাসান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস.এম নজরুল ইসলাম, উপজেলা চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন পলাশ।
এসময় গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ও বাহাদুরসাদী ইউপি চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন আহমেদ এর নেতৃত্বে প্রায় দুই হাজার নেতাকর্মীর একটি মিছিল নৌকার শ্লোগান দিয়ে সভাস্থলে যায়। এসময় প্রতিমন্ত্রী চুমকি’র এপিএস মাজেদুল ইসলাম সেলিম, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন, উপজেলা আওয়ামলীগের সহ দফতর সম্পাদক বরুন, সদস্য সাইফুল ইসলাম, পৌর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক কামরুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সাদিকুর রহমান, বাহাদুরসাদী ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি সুব্রত পাল, জামালপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মোকাম্মেল মোড়ল, সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমেদ, কিশোর, রিয়াদ, ফয়সাল, মুজিবুর, বলরাম, জোনায়েদসহ প্রায় ৫০/৬০জন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী আগ্নেয়াস্ত্র, দা, ছেনি ও লাঠিসোটা নিয়ে মিছিলের উপর অতর্কিত হামলা করে। হামলায় শাহাবুদ্দিন চেয়ারম্যান, জেলা শ্রমিকলীগের সহ সভাপতি হোসেন আলী মেম্বার, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আফসার হোসেন, কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি বেনজির আহমেদ, সাবেক জিএস জাকির হোসেন, পৌর আওয়ামীগের ১নং ওয়ার্ডের সাবেক সহ সভাপতি মোসলেহউদ্দিন কাজী, তুমলিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সহ সভাপতি মাহফুজুর রহমান বাবুল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নুর আলম, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মুরাদ হোসেন, পৌর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজমল হুদা রনি, শাহিন, আকরাম, শাওন, হাসেন, বাতেন, মুঞ্জুর হোসেন, শফিকুল ইসলাম, রয়েল খান, নির্পণ চন্দ্র, তানজীম, আজিজ, শাহিন, কাউছার, সোহাগ, সাইফুল, হাসান, সবুজসহ প্রায় অর্ধশতাধিক আহত হয়। আহতদের মধ্যে নুর আলম, মুরাদ, মোসলেহউদ্দিন কাজী, শাহিন, কাউছার, সোহাগ ও রনি কালীঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে।  এসময় হামলাকারীরা পাঁচটি মোটরসাইকেল ও তিনটি বাস ভাংচুর করে।
এ বিষয়ে সাবেক এমপি আখতারউজ্জামান এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, ৫ অক্টোবর উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় যোগ দেয়ার জন্য আমাকে আমন্ত্রণ করা হয়। আমি ঐদিন সভায় যোগদানের জন্য এলাকায় গিয়ে জানতে পারি দলীয় কার্যালয় তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। তারপর আমাকে ৮অক্টোবর চুপাইরে আয়োজিত শহীদ ময়েজউদ্দিনের স্মরণ সভায় যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ করা হয়। আমার কর্মী সমর্থকরা নৌকার পক্ষে শ্লোগান দিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে গেলে তাদের উপর অতর্কিত হামলা করা হয়। হামলায় আমার প্রায় ২৫/৩০জন কর্মী সমর্থক গুরুতর আহত হয়। এসময় আমিসহ বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহামেদ ও প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি মে  বসা ছিলাম। আমি গাজীপুর জেলা ও কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের কাছে তদন্ত সাপেক্ষে এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করছি।   
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আবু বকর মিয়া জানান, ঘটনার বিষয়ে এখনো কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

 

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ